Sunday, February 10, 2019

আঙ্গুর ফল টক

আঙ্গুর ফল টক

-তোফাজ্জ্বল হোসেন(১৯৯৯-বর্তমান)
আমি তখন সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের নতুন ছাত্র। কিছু দিন হলো ওরিয়েন্টেশন ক্লাস হয়েছে। এর মধ্যেই ক্লাসের প্রায় সকল ক্লাসমেটের সাথে বেশ পরিচিত হয়ে গেলাম। আমার এখন অনেক ফ্যান। সকলের কাছে আমি "টি আর" নামেই পরিচিত। আমাকে বন্ধুরা এ নামেই ডাকতে পছন্দ করে। নিয়মিতই ক্লাস করি। সবার সাথেই সু-সম্পর্ক। বন্ধুদের নিয়ে আড্ডাটা এখটু বেশিই হয়। আমাদের ক্লাসের পাবেল এত সুন্দর করে গিটার বাজায় যে, আমার মন ছুয়ে দেয়। আমি তাঁর গিটারের রিদম অনুসরন করে মনে মনে ছন্দ মিলাতে থাকি। মন চায় আমিও গান লেখি। ক্লাসের ফাঁকে পাবেলের গিটারের সুরের মহড়ায় সবাই মত্ত থাকি। নিজে গান গাইতে পারি না তেমন তবুও সবার সাথে তাল ঠিক রাখার চেষ্টা করি। কখনও কলেজ ছুটির পর সদরঘাটে লঞ্চের ছাদে গানের মহড়া চলতে থাকে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। ইমন আমার বাসার প্রায় কাছাকাছিই থাকে। তাই কলেজ বন্ধ কালীন সময়টা তাঁর সাথেই কাটে। মাঝে মাঝে সাখাওয়াতকে আসার জন্য ইনভাইট করি। সে নদীর ঐ পাড়ে থাকে তো তাই তাঁর আসতেও তেমন সময় লাগে না। কিন্তু অন্য যারা আছে কেউই তেমন কাছে থাকে না। এদেরকে নিয়ে মন যে দিক যেতে চায় সে দিক ই চলতে শুরু করি। কখনও বই মেলাতে, কখনও ভিক্টোরিয়া পার্কে, কখনও বা কোন বন্ধুর আবিষ্কৃত নতুন কোন জায়গায়। এই ভাবেই কাটতে লাগলো আমার এক একটা দিন। আমার কলেজ লাইফের সপ্তম ক্লাসের কথা বলছি- আমি আব্দুর রাজ্জাক স্যারের বলবিদ্যা ক্লাস করছিলাম। এমন সময় আমার এক বন্ধু একটা মেয়ের সাথে ক্লাসে প্রবেশ করলো। এই মূহুর্তে ছেলেটার নাম মনে পড়তেছে না। তাঁরা দু'জন একই বেঞ্চে বসলো। দেখেই বুঝতে পারলাম এরা পরস্পর ভালো বন্ধু। মেয়েটা অত্যন্ত চঞ্চলা প্রকৃতির। বাচন ভঙ্গি এত নিখুঁত যে সেকেন্ডেই আমার মন ছুঁয়ে দিলো। মেয়েটির নাম না বলাই শ্রেয়। আমি তাকে একটা ছদ্ম নামেই এখানে উপস্থাপন করলাম। আমি তাঁর নাম দিয়েছি "তোকা"। বিস্তৃত করে বললে "তোকাজ্জীবান"। অপূর্ব সেই মেয়েটি। তেমন চিকনও না, আবার মোটাও না, মানানসই যাকে বলে। দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই স্মার্ট। প্রথম দেখাতেই আমি তার প্রেমে পড়ে গেছি। বার বার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলাম। মনে মনে প্রশংসা করছিলাম, আর মৃদু হাসতে ছিলাম। এমন সময় সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বললো, "তুমি আমার দিকে তাকিয়ে এমন করে হাসতেছো কেন? মনে রঙ লাগছে নাকি?" আমি তো লজ্জা পেয়ে গেলাম। কি মেয়ে মাইরে! অপরিচিত, তবুও আপনি করে না বলে তুমি বলতেছে। যাই হোক, আমি আর কথা বাড়ালাম না। পরের দিন ইন্টারন্যাশনাল প্রপোজ ডে।আমি মনে মনে ঠিক করলাম মেয়েটাকে আজকে প্রপোজ করবোই। হ্যাঁ অথবা না একটা কিছু তো বলবেই। মনের মধ্যে সুখের দোলা লাগছিলো। প্রপোজ করার পূর্ব মূহুর্তে মনের মধ্যে কেমন যে ফিলিংস্ হয় যে করে সেই বুঝে। রাত বাজে তখন সাঁড়ে এগারো টা। আমি তোকাকে মেসেঞ্জারে নক করলাম। আমাদের চ্যাটিং শুরু হয়ে গেলো। >>হেলো >হাই >>খেলা দেখেছো? > না। >>ও, কি করো? >শুয়ে আছি। >>"পল্লীগ্রাম" পড়েছো? >না, গো। সময় পাই নি। >>ও, আজকে না কি প্রপোজ ডে? >হুম। >>একটা কথা বলবো? >জী,,,, >>আমাকে একটা দিক নির্দেশনা দাও তো, ক্লাসমেটের সাথে রিলেশন করলে ভালো হবে কি না? > যদি সে তোমাকে বুঝে। >>কিন্তু, আমি তো এখনও জানাতেই পারি নি। >জানানোর চেষ্টা করো। >>কিন্তু কিভাবে চেষ্টা করবো। এখনও মুখোমুখি কথাই বলতে পারি নি যে। >একটা মানুষকে জানতে চাইলে কি করবা জানো? বলবা: হাই। তুমি যাদের সাথে কথা বলো তাদের সবাইকে কি জন্ম থেকেই চেনো? না তো। তাহলে তাদের সাথে যেমনে বলো তেমনিভাবেই বলবা,,,,, >>যদি সে রাজি না হয়,,,,, >তাও তো শান্তি পাবা। >>অন্য কারো সাথে হয় তো রিলেশন থাকতে পারে। >জিজ্ঞেস করবা। >>সত্যিই কি প্রপোজ করে দেখবো? > প্রপোজ না করে বুঝাও যে তাঁকে পছন্দ করো। আর বয়ফ্রেন্ড আছে কি না জিজ্ঞেস করো। কিন্তু কাকে? >> জাস্ট মেসেঞ্জারে পরিচয়। সে কি সহজেই মেনে নেবে? > কোথায় থাকে সে? >> আমাদের কলেজেরই। >নাম কি তাঁর? >>সাগর কন্যা। > তাঁর মানে আমাকেই মীন করতেছো। আমাকে দেখ নি? >>হাহাহা,,,, >মজা করো? >>আমি তোমাকে ভালোবাসি >মজা করতেছো। >>না, সত্যিই। আমি প্রপোজ ডে এর জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। > ও, থ্যাংকস। >>"প্রেমাঙ্গনা" কবিতাটাও তোমাকে দেখার পর লেখলাম। >মজা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু। >>মজা করি না। সত্যিই ভালোবাসি। >কিন্তু আমি তো তোমাকে ভালোবাসি না। এমন কি কাউকেই না। >>আমি তো জানতামই যে প্রপোজ করার পর এরকমই ফিডব্যাক পাবো। তাই তোমার কাছ থেকেই জেনে নিলাম কৌশলটা। >হুম। আমি রিলেশন পছন্দ করি না। আমি ভালোবাসাকে ঘৃনা করি। >> বাহ! বাহ! চমৎকার তোমার জবাব। > তুমি আমাকে দেখো নাই, তাই বলো? >>দেখেছি। কাল্পনিক একটা দৃশ্য দিয়ে শুরু করেছিলাম, কিন্তু কি ভাগ্য আমার, এটাই সত্যি হলো। > মানে? >> গোলাপের কলিটাকে আর ফুটতে দিলে না। >আচ্ছা, আমাকে কেন পছন্দ করো? >> তোমার চঞ্চলতা আর বন্ধু সুলভ আচরণে আমি মুগ্ধ হয়েছি, তাই। আমি রূপ দিয়ে মানুষ বিচার করি না। >আমার কেমন চালচলন? >>শুধু এইটুকুই জেনে রাখো, তুমাকে ঘিরে আমার সাহিত্য জগৎটাকে আরও বহু দূর এগিয়ে নিতে চাই,,,,,, >আচ্ছা, আমার চালচলন কখন নোটিস করলা? >>বৃহস্পতিবার। >কিন্তু কেমনে? >>এত কিছু জানার দরকার নাই। আমি সরাসরি তোমাকে কালকে প্রপোজ করতে চাই । যদি একটু খানি সুযোগ করে দাও,,,,, >আরে, পাগল হইছো না কি? আমি রিলেশনে যাব না গো। আমি এসবকে ঘৃণা করি। >>তোমাকে ভালোবাসতেই হবে। ভালোবাসা কি খারাপ? >আমার কাছে খারাপ। >>কেন? >খারাপ লাগে। >পূর্বের কোন প্রেমচ্ছেদ? ব্যাপার না। >>তা না। আমি নামাযে বসে কসম করছি আমি রিলেশন করবো না। >>কিন্তু কেন? >ওই যে, ঘৃণা করি। >>কেউ কি এমনিতেই ঘৃণা করে? >সবার প্রেম কাহিনী শুনে খারাপ লাগছে। >>ইচ্ছা করলে আমদের কাহিনীটা ভিন্ন করতে পারি না কি? >না গো। আমি ঘৃণা করি খুব। আমাকে দেখছোই তো লাফালাফি করতে পছন্দ করি। >>আবারও বলছি, আই লাভ ইউ। >সরি গো। আমি পারব না। >>আজকের রাতটা ভেবে ডিসিশন নিতে পারো। >আমি আমার ডিসিশন এ ঠিক আছি। চেঞ্জ হবে না। >>শেষ পরিণতিটা এই রকমই হবে তা আমি আগেই জানতাম। >হুম। আমার মেন্টালিটি তুমি দেখো নি। >>তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও এই কথাই বলতো। >জানি না কে কি বলতো, আমি যা বলছি তাই। >>ভালো। আজকে একটা নতুন এক্সপিরিয়েন্স হলো। >কোনটা? >>সত্যি কথাটা হলো, আমি এতক্ষণ তোমার সাথে মজা করছিলাম। হা,,,হা,,,হা,,,, আমি হেরে গেলাম। কিন্তু আমাকে তো যেকোন উপায়ে জিততে হবে। যেহেতু, আঙ্গুর খেতে পারলামই না, তাই বললাম আর কি, "আঙ্গুর ফল টক"। কিন্তু সত্যিই আমি তোকাকে আমার মনের মণি কোঠায় ঠাই দিয়েছিলাম। অনেক পছন্দ করি তাঁকে। অনেক ভালোবাসি,,,,,অনেক,,,,,,,,অনেক বেশি।

2 comments:

The summary of RICH DAD POOR DAD book

The summary of RICH DAD POOR DAD book "Rich Dad Poor Dad" is a personal finance book written by Robert Kiyosaki, which challen...