ঢাকা শহরের টিউশন
বাবা রিক্সা চালক। কোন মতে ছয় সদস্যের পরিবারটাকে সামাল দিচ্ছেন তিনি। আমার পড়া লেখার খরচটা তাঁর কাছে আকাশ ভেঙে মাথায় পড়ার মতো অবস্থা। আমি এতটা অবুঝ নই। আমি বাবার কষ্টটাকে উপলব্ধি করি বার বার। মাঝে মাঝে কোন একটা মানব-শূণ্য স্থানে বসে চুপি চুপি কাঁদি আর বলি আল্লাহ আমাকে কেন গরীবের ঘরে পাঠালো, বাবার ঘামে সিক্ত দেহ দেখে আমি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না। নিজে যদি পড়ালেখার খরচ টা মেটাতে পারতাম তাহলে কিছুটা হলেও বাবার কষ্ট কমাতে পারতাম। সেই সুবাদে আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন থেকেই ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়াতে শুরু করে দেই। তার পর থেকে আমার পড়ানোর একটা স্টাইল হলো আমি যে ক্লাসে পড়বো ঠিক তার আগের ক্লাসকে প্রাইভেট পড়ানো। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলাম। বাবা-মাকে যেকোন কাজে সাহায্য করতে পারতাম। এখন আমি উচ্চ শিক্ষার জন্য সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে অনার্সে ভর্তি হলাম। এখন পুরান ঢাকাতেই থাকি। এই এলাকায় আমার পরিচিত একজনও নাই। তাই আমি খুব বিপদে পড়ে গেলাম। ঢাকা এমন একটা জায়গা বাড়িতে যেখানে ১৫/২০ জন স্টুডেন্ট ছাড়া পড়াতাম না সেখানে মাত্র একটা স্টুডেন্ট পড়ানোর জন্য রাত দিন খোঁজাখোঁজি করতে হয়ছে। এ দেওয়ালে ওই দেওয়ালে লিফলেট লাগানো। বৃষ্টি হলে লিফলেট দেওয়াল থেকে উদাও হয়ে যেতো তাছাড়া দুষ্টু ছেলের তো শহরে অভাব নেই, চোখে পড়লেই ছিড়ে ফেলতে মন চায়। তাই প্রতিদিন গলি গলি ঘুরে চেক করতাম, না পাওয়া গেলে আবার লাগাতাম। বড় ভাইদের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। এক কথায় অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে আমাকে। আজ আমি ধারাবাহিক ভাবে এখানে উপস্থাপন করতে যাচ্ছি। ঢাকায় ঠিকে থাকতে হলে অবশ্যই আমার লেখা ব্লগটা তোমার জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনবে।